রাজধর্ম Rajdhormo by অভিষেক কর্মকার Abhisek Karmakar, chapter name প্রারম্ভিক পর্ব

প্রারম্ভিক পর্ব

চন্দ্রলেখার দক্ষিণ হস্ত শক্ত করে ধরে ফেলল শিলাদিত্য।আকাশের অস্তগামী সূর্যের আলোয় দুর্গের গায়ের জমাট বাঁধা অন্ধকারটা গভীর হয়ে এসেছে। চন্দ্রলেখা তার হাতের মৃৎ প্রদীপখানি কোন রকমে সামলে নিল। শিলাদিত্য চন্দ্রলেখার খোপা থেকে অ-প্রস্ফুটিত পদ্মটি আলতো করে তুলে নিয়ে নাকের কাছে ধরলো।-“বড়ই, মধুর ঘ্রাণ পুষ্পে।”পুষ্পটি কোমর বন্ধে রেখে শিলাদিত্য চন্দ্ররেখাকে নিয়ে নিজ অশ্বে উঠাতে উদ্ধত হওয়া মাত্র চন্দ্রলেখা বিদ্রোহ করে উঠে। “যুদ্ধের ভয়ে তুমি পালিয়ে যাচ্ছো, কাপুরুষ।” শিলাদিত্য লৌহ কঠিন হস্তের বাঁধন আরও শক্ত করলো। “এবার আমাকে মুক্ত কর না হলে...”বলল চন্দ্রলেখা।


শিলাদিত্য কোমরবন্ধ থেকে ছুরিটি চন্দ্রলেখার কন্ঠে স্পর্শ করালো।–“শব্দ নয়। নিজের রাজ্যের স্বার্থে প্রেমিকার হত্যা পাপ কাজ নয়। প্রাণ চাইলে এখান থেকে চল।” –“শুধুই কেড়ে নিতেই চাও, কখনও জয় করার মন চায় না তোমার?” “আর কথা নয় চল আমার সাথে...” বলে উঠলো শিলাদিত্য। -“আমি মহারাজের সেবিকা। তার সেবাই আমার ধর্ম।” –“ধর্ম? ভুলে গেছো...? রাজকুমারী থেকে দাসীতে পরিণত করেছে। রাজকুমারীর কোন সম্মান তোমাকে দেয়নি। সেই সময় এদের ধর্ম কোথায় ছিল?” কথাটি জ্বলন্ত শলাকার ন্যায় চন্দ্রলেখার গাঁয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে উঠলো। সে তার রাজ সন্তান বটে কিন্তু মহারাণীর সন্তান নয়। তার জন্মের অন্ধকারত্ব চাপা দিতে তার সত্য পরিচয় কখনও প্রকাশ করা হয়নি, প্রাপ্য অধিকার কখনও দেওয়া হয়নি। -“ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থেকে লাভ কি? ঘৃণায় রক্তের পরিবর্তে রক্ত যায়...তুমি চলে যাও। সেনাপতি দেখে ফেললে......এখানে সৈনিকদের যুদ্ধ থেকে পালানোর অপরাধ মত্যুদন্ড।” প্রায় নিঃশব্দে এক অট্টহাস্য করে উঠলো শিলাদিত্য।“সেনাপতি সে তো চেতনাহীন, গভীর নিদ্রায়।পল্লব রাজ শুধু মাত্র আমার সংকেতের অপেক্ষায়।” চন্দ্রলেখার গলা স্বর কেঁপে উঠলো, চোখের কোণে অশ্রুধারায় চোখ ছলছল করে উঠলো। -“রাজভাগ্য আমার নেই। কিন্তু আমি আমার শরীরেও রাজ রক্ত বইছে। আমি এইখানেই থাকবো। আমার শেষ রক্তবিন্দু এই মাটিতেই পরবে।” আবেগে শিলাদিত্যর মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আলগা হয়ে আসে। চন্দ্ররেখা প্রদীপটির তাপ নিজ হাতে শিলাদিত্যর মাথায় প্রদান করলো। -“ইশ্বর তোমাকে যুদ্ধে জয়ী করুক। তোমায় রক্ষা করুক।” ⁣